কেন বন্ধ হলো ফেসবুক? বিজিপি ডুবালো ইউটিউব কে

.

নিবন্ধ

তথ্য প্রযুক্তি | Information & Technology

কেন বন্ধ হলো ফেসবুক? বিজিপি ডুবালো ইউটিউব কে

কেন বন্ধ হলো ফেসবুক? ফেসবুক বন্ধ হয় কীভাবে? ইন্টারনেট শব্দটার অর্থই হচ্ছে অনেক নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ। এই নেটওয়ার্কগুলির মালিকানা আলাদা আলাদা, তাই এদের বলা হয় autonomous system বা বাংলায় স্বায়ত্তশাসিত। এগুলিকে এক একটা নেটওয়ার্কের ঠিকানা ভাবা যেতে পারে, এবং সেগুলিকে সংক্ষেপে AS নাম্বার বলা হয়। 

ফেসবুক কেন ডাউন হয়ে গেলো এ নিয়ে দেখুন থিংকে ভিডিও ফেসবুক হঠাৎ বন্ধ হয়েছিলো কেন?

সব নেটওয়ার্ক তাদের এই ঠিকানা ইনটারনেটকে জানায় যে পদ্ধতিতে, তার নাম বর্ডার গেইটওয়ে প্রটোকল বা বিজিপি। এটা অনেকটা কোন ব্যবসা নতুন ফোন নাম্বার পাওয়ার পর বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে জানানোর মত। ইংলিশে এটাকে বলাও হয় advertisement. কিন্তু যদি দবীর কোম্পানি ইচ্ছা করে সগীর কোম্পানির নাম, কিন্তু নিজের ফোন নাম্বার দিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে থাকে? তাহলে সগীরের কাস্টমাররা সেই বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করলে দবীরের কাছেই কল  যাবে। বিজিপি দিয়ে এমন কাজ করা সম্ভব, এবং হয়েছেও।

আমরা সবাই ফেইসবুকের ইন্টারনেট থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা জানি, এবং সেটার পেছনেও আছে বিজিপি-র সমস্যা, কিন্তু সেটা হয়েছিল ফেইসবুকের ভেতর থেকে ভুল কমান্ড দেয়ার জন্য।

২০০৮এ পাকিস্তানের সরকারের বিরোধীতা করা কিছু ভিডিও যাতে পাকিস্তানে না দেখা যায়, তাই সরকারি আইএসপি পাকিস্তান টেলিকম ইউটিউবের AS নাম্বার গুলির বদলে নিজেদের AS নাম্বারকে ইউটিউবের ঠিকানা হিসাবে সম্প্রচার করা শুরু করলো। এটা উপরের দবীর কোম্পানির সগীর কোম্পানির ব্যবসা নিজে টানার চেষ্টার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। পাকিস্তান টেলিকমের উদ্দেশ্য ছিল, এর ফলে পাকিস্তানের সব ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ইউটিউবে না গিয়ে পাকিস্তান টেলিকমের সার্ভারে যাবে, ইউটিউব ব্লক হয়ে থাকবে। 

ঝামেলা লেগে গেল অন্য জায়গায়। পাকিস্তান টেলিকম তাদের এই সম্প্রচার বা AS নাম্বার বিজ্ঞাপন পাকিস্তানের ভেতরে সীমিত রাখতে ভুলে গিয়েছিল। আর পাকিস্তানের পরের ধাপের ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হংকং এর PCCW সেই সম্প্রচার ছড়িয়ে দিয়েছিল সারা বিশ্বে। ফলে সারা ইন্টারনেট জেনে গেল, ইউটিউবের ঠিকানা হচ্ছে পাকিস্তানের ২৫৬টা কম্পিউটার, এবং ফলে ইন্টারনেট থেকে উধাও হয়ে গেল ইউটিউব। যেহেতু পাকিস্তান টেলিকম আসল ইউটিউবের হাজার হাজার সার্ভারের চাইতে বেশি নির্দিষ্ট করে মাত্র ২৫৬টা ঠিকানা দিচ্ছিল, বিজিপি-র নিয়ম অনুযায়ী সেটাকেই সবাই প্রাধান্য দেয়া শুরু করলো। মাত্র ১৫ সেকেন্ডে এশিয়া, আর ৪৫ সেকেন্ডে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেল এই ভুল ঠিকানা। 

ইউটিউব সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে। প্রথমে তারাও ২৫৬টা ঠিকানা দিয়ে শুরু করে, কিন্তু তাতে লাভ না হওয়ায় এবার তারা ৬৪তে নেমে আসে এবং অবশেষে বিজিপি-র নিয়ম অনুযায়ী তারা প্রাধান্য পায়। প্রায় দুই ঘন্টা পরে আসল ইউটিউব আবার ফিরে আসে ইন্টারনেটে।

সমস্যা আসলে বিজিপি-তে। যদি সঠিকভাবে এটাকে তৈরি করা হতো, তাহলে এই সমস্যা হতো না। এটা সমাধান করার জন্য সিকিওর (নিরাপদ) বিজিপি  নামে একটা পদ্ধতি আছে, কিন্তু যেহেতু এটা শুরু করতে গেলে সারা ইন্টারনেটের সবাইকে একে একে নতুন রাউটার বসানো লাগবে, তাই কেউ এটা করতে চাইছে না, আর এই সব ঘটনা ঘটে চলেছে কিছুদিন পরপর। 


সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিও দেখুন | Most Watched Video

?>

নিবন্ধসমূহ | Articles

সমস্যা আসলে বিজিপি-তে। যদি সঠিকভাবে এটাকে তৈরি করা হতো, তাহলে এই সমস্যা হতো না। এটা সমাধান করার জন্য সিকিওর (নিরাপদ) বিজিপি নামে একটা পদ্ধতি আছে, কিন্তু যেহেতু এটা শুরু করতে গেলে সারা ইন্টারনেটের সবাইকে একে একে নতুন রাউটার বসানো লাগবে, তাই কেউ এটা করতে চাইছে না, আর এই সব ঘটনা ঘটে চলেছে কিছুদিন পরপর।