ডাইনোসর ফিরিয়ে আনা কি সম্ভব ?
আজকের পৃথিবীতে ডাইনোসর খুব পরিচিত একটি নাম হলেও, আঠারোশ শতকের আগে ডাইনোসরের অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষের কোন ধারণা ছিল না। আঠারোশ শতকের দিকে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দেশে এবং মহাদেশে হাজার হাজার জীবজন্তুর ফসিল আবিষ্কার করতে শুরু করেন। এর মধ্যে আবার ছিল দৈত্যের মত বিভিন্ন আকারের সব হাড়গোড়! জীবাশ্মবিদেরা মহা মুশকিলে পড়ে গেলেন। পূর্বপরিচিত কোন প্রাণীর সাথেই এদের কোন মিল নেই। তাঁরা ভাবতে শুরু করলেন, এগুলো কোথা থেকে এলো? এসব ভয়ঙ্কর জন্তুদের উদ্ভব ঘটেছিল কিভাবে? কত আগে? কেনই বা তারা উধাও হয়ে গেল? সিনেমায় ডাইনোসর নিয়ে জানতে দেখুন থিংকের ভিডিওটি।
১৮৪১ সালে জীবাশ্মবিদ, রিচার্ড ওয়েন এদের নাম দিলেন ডাইনোসর। প্রাচীন গ্রিক ভাষায় যার অর্থ - ভয়ঙ্কর লিজার্ড বা টিকটিকি। এই রহস্যময় প্রাণীটি নিয়ে কত জল্পনা-কল্পনা কত রূপকথা, কত সিনেমার সূচনা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।জুরাসিক পার্ক সিনেমাটার কথা মনে আছে যেখানে ৬ কোটি বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসরদের ফিরিয়ে আনার গল্প বলা হয়েছে? সিনেমার গল্পটা এমন ছিল, যেখানে অ্যাম্বার পাথরে কয়েক কোটি বছর আগে আটকে-যাওয়া একটি মশা খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। মশাটি কোনো এক ডাইনোসরের রক্ত খেয়েছিল। আর সেই মশার রক্ত থেকেই বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরের ডিএনএ সংগ্রহ করেন। এরপর সেই ডিএনএ থেকে জন্ম দেন নতুন ডাইনোসরের। সিনেমার মতো করে বাস্তবে কি এরকম মশা, মাছি বা অন্যান্য প্রাণী থেকে ডাইনোসরের রক্ত/ডিএনএ পাওয়া সম্ভব?
বিজ্ঞানীরা বলছেন ডাইনোসরদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যদি ডিএনএ পাওয়া যায়।জুরাসিক পার্ক সিনেমার মত যদি ছয় কোটি বছর আগের অ্যাম্বার পাথরে আটকে-যাওয়া কোন মশা মিলে যায় যে ডাইনোসরের রক্ত খেয়েই অ্যাম্বার আঠায় আটকে গেছে কিংবা যদি মিলে যায় কোনো অক্ষত ফসিল যেখানে ডিনএনএ সুরক্ষিত আছে তবেই সম্ভব ডাইনোসরদের ফিরিয়ে আনা।
আশার কথা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন যে ডিএনএ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তার বয়স ৭ লক্ষ বছর। কানাডার যুকন শহরের একটি হিমায়িত সোনার ক্ষেত্রে পাওয়া ঘোড়ার ফসিল থেকে এই ডিএনএ পাওয়া গিয়েছিল। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন ৮ লক্ষ বছর আগের মানুষের দাঁত থেকে তারা জিনোম সিকোয়েন্স করতে পেরেছেন।বিজ্ঞানীদের ধারণা, সাধারণত কোন ডিএনএ ১ মিলিয়ন থেকে ৫/৬ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তাই ডাইনোসরের ডিএনএ পাওয়া অস্বাভাবিক না। হয়ত ভবিষ্যতে আমাদের এই পৃথিবীতে আবারো ঘুরে বেড়াবে এই অতিকায় প্রাণীগুলো।
লেখা- বন্যা আহমেদ