মহাদেশের ধাক্কাধাক্কি
প্লেট টেকটনিক তত্ত্ব ও পাত সঞ্চালন কাকে বলে? মহাদেশ কীভাবে ভাঙছে? মহাদেশ কীভাবে ভাঙছে, গড়ছে?মহাদেশ ভাঙা গড়ার ঘটনাকে বলা হয় পাত সঞ্চালন বা প্লেট টেকটনিক্স। পৃথিবীর ৭ টি মহাদেশ ক্রমাগতভাবে বদলে যাচ্ছে।
কল্পনা করুন, আপনি ঘরে শুয়ে আছেন, হয়তো বই পড়ছেন বা কম্পিউটার গেমস খেলছেন অথবা ফেসবুক মেটাভার্সে কোন কনফারেন্সে কথা বলছেন আর ঠিক তখন আপনার ঘরের ঝুলন্ত বাতিগুলো দুলতে শুরু করলো, আপনার বুক-সেলফ থেকে বইগুলো উড়তে শুরু করলো, কোন এক অদৃশ্য কম্পন আপনার ঘরের আসবাবপত্রগুলোকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে শুরু করলো, যেনো আপনার সমস্ত কক্ষ একেবারে সাইকো হয়ে গেছে!
আসলে ভূমিকম্পের সময় সমস্ত ভু-খন্ডটি তরল পদার্থের মতো বিহেভ করে। আপনার পায়ের তলার মাটিগুলো আকস্মিক সমূদ্রের ঢেউয়ে পরিণত হয়ে যায়। মনে হয় যেনো, আকস্মিক পৃথিবী সমূদ্র হয়ে গেছে। আর শুষ্ক মাটিতে সমূদ্রের ঢেউয়ের এই কম্পনকেই মূলত ভূমিকম্প বলে। আপনি যদি মাটিতে শুয়ে থাকেন তবে আপনি এ কম্পন দেখতে পাবেননা, কেনোনা আপনি ঢেউয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। আপনি শুধু পায়ের নিচের মাটি নড়তে ও কেঁপে উঠতে দেখবেন।
বিভিন্ন প্রকারের ভূমিকম্প আছে। জাপানে ভুমিকম্পগুলি ও তাদের সৃষ্ট সুনামি প্রায় সংঘটিত হয়। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে। থিংকের এ ভিডিওটিতে ভূমিকম্প আসলে কি, এবং একটি ফল্ট লাইন বলতে আমরা কি বুঝি, যেমন, সান আন্ড্রিয়াস ফল্ট, এবং পৃথিবীর অন্য জায়গায় একই ধরনের ফল্টগুলো আসলে কি, সেটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (https://youtu.be/3z5PnwQUr1U)
ভুমিকম্প সম্পর্কে জানতে হলে আপনাদের প্রথমেই প্লেট-টেকটোনিক্সের গল্প জানতে হবে। মূলত, মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিরগুলোর মাঝখানের স্পেস - টাইম যেমন সিঙ্গুলারিটি পয়েন্ট বিস্ফোরিত হয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে, প্লেট টেকটোনিকের মাধ্যমে মহাদেশগুলোও পরস্পর পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমরা যদি আজ থেকে মিলিয়ন বছর অতীতে সময় ভ্রমণ করি তবে আমরা দেখবো মহাদেশগুলো পরস্পর পরস্পরের অনেক নিকটে ছিল। একশত পঞ্চাশ মিলিয়ন বছর আগে, আফ্রিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা পুরোপুরিভাবে সংযুক্ত ছিল, পরস্পরের সাথেই শুধু না, মাদাগাস্কার, ভারত আর অ্যান্টার্কটিকার সাথেও, এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সাথে যা যুক্ত ছিল অ্যান্টার্কটিকার অন্য পাশে। একসাথে এই ভূখণ্ডগুলো সুবিশাল একটি বিশাল ভূখণ্ড বা সুপার-মহাদেশ তৈরী করেছিল, যার নাম দেয়া হয়েছে গন্ডওয়ানা, যা পরে বহু খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, একের পর একটি কন্যা-মহাদেশ তৈরী করার মাধ্যমে। তার মানে একসময় গ্যালাক্সির মতো মহাদেশ গুলো একে অন্যের এত নিকটে ছিলো যে আপনি এক লাফে এক মহাদেশ থেকে অন্য আর একটি মহাদেশে চলে যেত পারতেন! থিংকের এ ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে কিভাবে প্লেট টেকটোনিক ভুমিকম্পের সাথে সম্পৃক্ত! (https://www.youtube.com/watch?v=3Dlf_aK_MrE)
আমরা আরো জানি যে, মহাদেশগুলো শুধু পরস্পর থেকে দূরে সরেই যায়নি। কখনো কখনো তারা পরস্পরের সাথে ধাক্কাও খেয়েছিল এবং যখন সেটি ঘটেছিল উর্ধমুখী সুবিশাল আর সুউচ্চ পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক এভাবে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছিল: যখন ভারত এসে এশিয়ার সাথে ধাক্কা খেয়েছিল। আসলে, এশিয়ার সাথে ভারত এসে ধাক্কা খেয়েছিল এ কথা সম্পূর্ণ সত্য নয়। এশিয়ার সাথে যা ধাক্কা খেয়েছিল সেটি আরো অনেক বড় একটি জিনিস, যাকে বলা হয় ‘প্লেট’, যার বেশীর ভাগ অংশ পানির নীচে নিমজ্জিত, যার উপর ভারত বসে। যাক, আমি এ ব্যাপারে বেশিকিছু আলোচনা করবোনা, আপনারা হয়তোবা বুঝতে পেরেছেন ভুমিকম্প মূলত কি, ভুমিকম্প হলো এ প্লেটগুলোর ভেতরকার বিভিন্ন রকমের সংঘর্ষ! তো চলুন, ভূমিকম্পকে বুঝতে আমরা থিংকের ''মহাদেশগুলো কেনো দূরে সরে যাচ্ছে'' এ সংক্রান্ত ভিডিওটি দেখে আসি।