চালকবিহীন গাড়ি কী এবং কীভাবে চলে? আগামী দিনের প্রযুক্তি চালক বিহীন গাড়িতেই হবে যাতায়াত
চালকবিহীন গাড়ি কী এবং কীভাবে চলে? চালক বিহীন হলো আগামী দিনের প্রযুক্তি। চালক বিহীন গাড়িতেই হবে যাতায়াত, পণ্য আনা নেয়া সহ যাবতীয় সকল কাজ। বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা সিনেমা থেকে চালকবিহীন গাড়ি ব্যাপারটা ধীরে ধীরে বাস্তব হয়ে উঠছে।
মোটর ইন্ডাস্ট্রি যে চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলির দিকে দ্রুত ঝুঁকছে তার মূল কারণ, ঠিকঠাকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে এই প্রযুক্তি হবে একটা নতুন বিপ্লব। এর সুবিধা হবে অপরিসীম।
প্রথমত, মানুষের স্বাভাবিক ভুল বা হিউম্যান এররের কারণে যে পরিমাণ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তা কমিয়ে আনাই হবে এর সবচেয়ে বড় অবদান।
চালকবিহীন গাড়ির সর্বশেষ কিছু প্রটোটাইপ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তারা ভাঙা রাস্তা, ভাঙা গাড়ির টুকরা ইত্যাদি শনাক্ত করতে পারছে এবং সাইক্লিস্টদের সাথে ব্যস্ত সড়কেও সমান্তরালে অনায়াসে গাড়ি চালিয়ে যেতে পারছে।
এমনকি, এই গাড়িগুলি থাকবে ইলেকট্রিক চালিত অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব। এছাড়া, ক্লাউড ভিত্তিক ইন্টারনেটে যুক্ত থাকার কারণে গাড়িগুলি ট্রাফিক ব্যস্ততাও টের পাবে আগে থেকেই। সেই অনুযায়ী পথ এবং গতি পাল্টিয়ে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে গন্তব্যে। ফলে ন্যূনতম কার্বন ব্যবহারের কারণে এই গাড়িগুলি হবে গ্রিন ড্রাইভিংয়ের উদাহরণ।
প্রযুক্তির কল্যাণে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় এখনই পরীক্ষামূলকভাবে চলছে টেসলা, গুগল, উবারের চালকবিহীন গাড়ি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ রকম স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হওয়া শুরু হবে; ১৫-২০ বছরের মধ্যে আশা করা যাচ্ছে সারা বিশ্বের সব ব্যস্ত রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে।
চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি পুরোপুরি নিরাপদে চলার জন্য প্রয়োজন অব্যর্থ সেন্সর প্রযুক্তি, যাতে গাড়ির চলার পথের পারিপার্শ্বিক পরিমণ্ডলের একটি সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। তাই স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে সেন্সর প্রযুক্তি হিসেবে ক্যামেরা, রেডার ও লিডার এ তিন প্রযুক্তিই একসঙ্গে হবে। এরা একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।